OrdinaryITPostAd

কেন খেজুর সুপারফুড

খেজুর অতি প্রাচীন একটি ফল। এই ফলটি মুসলিমদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় ও মুখরোচক ফলের মধ্যে অন্যতম। প্রায় সারা বছরই খেজুরের চাহিদা বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত। চলছে মোসলমানদের পবিত্র মাস রমজান। এই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায় সকলেই অনান্য খাদ্য তালিকার পাসাপাশি খেজুরকে প্রধান খাদ্য হিসেবে সেহেরি ও ইফতারিতে রাখে। ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে সৌদিআরব, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্থান এমনকি বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও এই সুপারফুড খেজুর পবিত্র মাহে রমজানে বেশ জনপ্রিয়। তবে, এক জরীপে দেখা যায় দীর্ঘদিন যাবত পবিত্র রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি খেজুর খেয়ে আসছেন মরক্কোবাসীরা। মিষ্টি ও স্বাদ এবং অসংখ্য গুনে গুনান্নিত স্বাস্থ্যসম্মত খেজুর শুধু মরক্কোতেই নয়; গোটা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় উঠেছে। প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা জানবো কেন খেজুর সুপারফুড।
পোস্টসূচিপত্রঃ খেজুর (Dates)-কে সুপারফুড বলা হয় কারণ এতে রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। খেজুর আমাদের খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায়। ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের চাষ শুরু হয় ৬০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে। স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে একে “প্রকৃতির উপহার” বলা হয়ে থাকে। আধুনিক খাদ্য বিজ্ঞান খেজুরকে সুপারফুডের মর্যাদা দিয়েছে, যা এর অনন্য পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য সুবিধা দ্বারা প্রমাণিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

খেজুর প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ইসলামে মাহে রমজানে সেহেরী ও ইফতারের সময় খেজুর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ এটি দিয়ে রোজা থাকা এবং ভাঙা হয় বিদায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য লক্ষণীয়।

খেজুরের প্রজাতি

পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ এর বেশি প্রজাতির খেজুর রয়েছে। যেগুলোর প্রতিটির আলাদা আলাদা গঠন এবং স্বাদ রয়েছে। জনপ্রিয় প্রজাতিগুলোর মধ্যে মরিয়ম, মজাফতি, মেদজুল এবং কালমা উল্লেখযোগ্য।

দৈনন্দিন জীবনে খেজুরের ব্যবহার

খেজুর শুধুমাত্র খাবার হিসেবে নয়, বিভিন্ন রেসিপিতে মিষ্টি খাবার যোগ করার জন্যও ব্যবহৃত হয়। এটি প্রাকৃতিক চিনি হিসেবে হেলদি বিকল্প হতে পারে।

খেজুরের পুষ্টিগুণ

খেজুর পুষ্টিতে ভরপুর একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে থাকে:

  • শক্তি: প্রায় ২৭৭ ক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেট: ৭৫ গ্রাম
  • ফাইবার: ৭ গ্রাম
  • প্রাকৃতিক চিনি: ৬৬ গ্রাম
  • প্রোটিন: ২ গ্রাম
  • মিনারেল: পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, এবং লোহা
  • ভিটামিন: বি৬ এবং কে

খেজুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. পুষ্টি উপাদানে ভরপুর: 

পোস্টে উপাদানে ভরপুর খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, ভিটামিন (যেমন ভিটামিন বি৬) এবং মিনারেল (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম) আছে যা আমাদের শরীরকে দ্রুত এনার্জি বাড়াতে সহায়তা করে।

২. শক্তি প্রদানকারী:

শক্তি প্রদানকারী খেজুর প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরে দ্রুত শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি বিশেষত ক্রীড়াবিদ এবং কর্মব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য চমৎকার প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। খেজুর প্রাকৃতিক শর্করা—যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজে সমৃদ্ধ, যা দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। 

৩. হজমে সহায়ক: 

খেজুরে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ফাইবার যা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং অন্ত্রের চলাচল নিয়মিত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৪. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: 

পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় খেজুর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। খেজুরে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: 

খেজুরে পলিফেনল, ক্যারোটিনয়েড, এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে, যা দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা দেহের কোষগুলিকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে।

খেজুরে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যেমন:

  • ফ্ল্যাভোনয়েড: যা প্রদাহ কমায় এবং হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
  • ক্যারোটিনয়েড: যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে।
  • ফেনলিক অ্যাসিড: যা ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

৬. হাড়ের মজবুতিকরণ: 

খেজুরে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হাড়কে শক্তিশালী ও হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে, হার্টের স্বাস্থ্য উন্নতিতে এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। এটি বৃদ্ধ বয়সে হাড়ের দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।

৭. মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করা: 

খেজুরে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং সেরোটোনিন এবং নোরেপিনেফ্রিন উৎপন্ন করতে সহায়ক। এটি মেজাজ উন্নত করে এবং মানসিক চাপ হ্রাস করে।

৮. ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করা: 

খেজুরে থাকা আয়রন ও ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে এবং শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। 

৯. গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী: 

গর্ভাবস্থায় খেজুর খেলে প্রাকৃতিকভাবে শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং প্রসব প্রক্রিয়া সহজ হয়। গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার শেষ দিকে খেজুর খাওয়া প্রসবকালীন সময় কমাতে পারে।

১০. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়: 

খেজুরে থাকা ভিটামিন সি এবং ডি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা প্রদান করে। এটি বার্ধক্যের লক্ষণ যেমন বলিরেখা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।

১১. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য: 

যদিও খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা বেশি, এটি উচ্চ ফাইবারের কারণে দীর্ঘ সময় পেট ভরতি রাখে। এটি অতিরিক্ত ক্ষুধা প্রতিরোধে সহায়ক, যা ওজন কমানোর পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

খেজুরের পুষ্টি প্রোফাইল কি

খেজুর পুষ্টিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ফল, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করে। নিচে খেজুরের পুষ্টি প্রোফাইল দেখানো হলো (প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুর ভিত্তিতে):

উপাদান পরিমাণ শক্তি      (ক্যালরি) ২৭৭ ক্যালোরি
মোট ফ্যাট                         ০.১৫ গ্রাম
প্রোটিন                               ১.৮ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট                   ৭৫ গ্রাম
প্রাকৃতিক শর্করা                ৬৬ গ্রাম
ডায়েটারি ফাইবার             ৭ গ্রাম
পটাশিয়াম (Potassium)     ৬৯৬ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম                   ৫৪ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম                       ৬৪ মিলিগ্রাম
আয়রন                              ০.৯ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি৬                    ০.২ মিলিগ্রাম

এই পুষ্টিগুণগুলোর জন্যই খেজুরকে প্রাচীনকাল থেকেই "প্রকৃতির উপহার" বা "সুপারফুড" হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্লেষণ:

শক্তি ও শর্করা: খেজুর তাৎক্ষণিক শক্তি যোগাতে কার্যকর। এটি প্রাকৃতিক চিনি, যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ সমৃদ্ধ।
  • ফাইবার: উচ্চ ফাইবার উপাদান হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
  • মিনারেল: পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, এবং ক্যালসিয়াম হৃদযন্ত্র, হাড় এবং পেশীর কার্যকারিতার জন্য সহায়ক।
  • ভিটামিন: ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
  • লোহা: আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
এই পুষ্টিগুণগুলোই খেজুরকে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সুপারফুড হিসেবে অনন্য করে তুলেছে। 


পরিশেষে, খেজুর রক্তাল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য একটি মূল্যবান খাবার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আমরা আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে কেন খেজুর সুপারফুড সে সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পেলাম। আজকের আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪